ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসায় থার্মাল থেরাপি
ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসায় থার্মাল থেরাপি একটি অভিনব সংযোজন যা খুবই অল্প সময়ের মধ্যে প্রবল আলট্রা সাউন্ড এর দ্বারা ক্যান্সার কোষকে পুড়িয়ে ধ্বংস করে। এই পদ্ধতিতে চিকিৎসার জন্য কোন প্রকার আনেস্থেসিয়া বা সার্জারির প্রয়োজন হয় না এবং ত্বক ও পুড়ে যায় না।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের জন্য তাপ চিকিৎসার প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয় হল টিউমারের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়িয়ে এর কলা বিনষ্টকরণের মাধ্যমে ক্যান্সার নিয়ন্ত্রন করা। এই থেরাপিতে ক্যান্সার টিস্যুকে তাপ প্রয়োগ করে এর তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সে. থেকে ৪৩.৫ ডিগ্রি সে. এ নিয়ে যাওয়া হয় এর ফলে ক্যান্সার কোষ এর বর্ধন প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়। এটি শুধুমাত্র ক্যান্সার কোষ নিয়ন্ত্রনেই কাজ করে না বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এবং রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির কার্যকারিতাকে বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ার ফলে যে সব পরিবর্তন ঘটে তা হল- রক্তের ধমনী গুলো প্রসারিত হয়ে যায়, রক্ত প্রবাহ বাড়ে এবং শরীর দ্রুত তাপমাত্রা ছেড়ে দেয়। এসকল পরিবর্তন নিশ্চিত করে যে শরীরের তাপমাত্রা যদি ৪২.৫ ডিগ্রি সে. থেকে ৪৩.৫ ডিগ্রি সে. ও বাড়ানো হয় তারপর কোষ গুলোর কোন রকম ক্ষতি হয় না আর যদি কোন ভাবে টিস্যু গুলো ক্ষতি গ্রস্থ হয়ও, সেগুল আবার নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়। অবশ্য ক্যান্সার কোষগুলো একটু ভিন্ন। ক্যান্সারের ধমনী গুলোর আকৃতি ভিন্ন, এগুলো জটিল এবং পেঁচানো, চাপ প্রয়োগের ফলে বিকৃত হয়ে যায় এবং ধমনী রোধী রক্ত পিণ্ডের সৃষ্টি করে। ক্যান্সারের ধমনী গুলো মূলত বিভিন্ন স্তর বিশিষ্ট কোষ দ্বারা তৈরি, এগুলো ভঙ্গুর এবং সহজেই ভেঙ্গে ফেলা যায়। এসকল নতুন ধমনীগুলো অর্ধ বিকশিত এবং বিকৃত অবস্থায় জন্মায় এবং তাপ প্রয়োগের ফলে এরা সামঞ্জস্যতা হারায়। এতে কোষগুলোর অভ্যন্তরীণ রক্ত প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয় এবং রক্ত প্রবাহের মাত্রা মাত্র ১% -১৫% হয়ে যায়। এরফলে ক্যান্সার কোষ গুলো তাপ মুক্ত করতে পারেনা এবং তাপমাত্রা বেড়ে যায়। সাধারণত ক্যান্সার টিস্যুর তাপমাত্রা স্বাভাবিক টিস্যু গুলো থেকে ৮~১০ ডিগ্রি সে. বেশী থাকে। সুতরাং তাপ প্রয়োগের ফলে স্বাভাবিক টিস্যুর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সে. হয় এবং ক্যান্সার টিস্যুর তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সে. হয়। এই তাপমাত্রা স্বাভাবিক টিস্যুর কোন রকম ক্ষতি না করে ক্যান্সার টিস্যু কে ধ্বংস করতে পারে। টিউমার যত বড় হয় তাপ প্রয়োগের ফলে এর রক্ত প্রবাহ ততোই কমে যায় এবং ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। এন্ডওজেনিক ফিল্ড হাইপারথার্মিয়া এভাবেই স্বাভাবিক টিস্যুগুলোর কোন ক্ষতি করা ছাড়াই তাপ প্রয়োগ করে ক্যান্সার কোষ কে ধ্বংস করে এবং এর অন্য কোন ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও নেই।
কেমোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এর ভূমিকাঃ
পরিনত পর্যায়ের ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসায়ও থার্মাল থেরাপি ব্যবহৃত হয়। একাধিক ট্রিটমেন্ট যেমন সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ইত্যাদি করার ফলে টিউমার কেমোথেরাপির প্রতি সংবেদনশীলতা হারায়। থার্মাল থেরাপি সরাসরি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার মাধ্যমে কেমোথেরাপির প্রতি ক্যান্সারের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। ক্যান্সার কোষ গুলো যেহেতু তাপ ছেড়ে দিতে পারেনা সুতরাং থার্মাল থেরাপি এদের তাপমাত্রা অনবরত বাড়াতে পারে। থার্মাল থেরাপির সাথে কেমোথেরাপি ব্যবহৃত হলে ক্যান্সার চিকিৎসায় অনেক ভাল ফল পাওয়া যায়।
থার্মাল থেরাপি এবং কেমোথেরাপি একত্রে ব্যবহার করে ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগীর জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করে তাদের জীবনকাল বাড়ানো সম্ভব। উপরন্তু এটি রোগীর শরীরের পক্ষে সহনশীল এবং এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। থার্মাল থেরাপি ও কেমোথেরাপির সংমিশ্রণ পরিনত পর্যায়ের ব্রেস্ট ক্যান্সারকেও নিয়ন্ত্রন করতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা গ্রহনের উপরই রোগীর সুস্থতা নির্ভর করে। সেজন্য রোগীকে প্রাথমিক অবস্থায়ই সঠিক চিকিৎসা গ্রহনের জন্য হাসপাতালে যেতে হবে এবং মনোবল অটুট রাখতে হবে।
scrollTop