লিউকেমিয়ার চিকিৎসা
লিউকেমিয়া হল রক্ত-বিরচন সিস্টেমের একতি মারাত্মক রোগ। এটা যে কোনো বয়সে হতে পারে। জটিল অবস্থায় উপনীত লিউকেমিয়া স্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর যেহেতু এটি হঠাৎ করে হয়, দ্রুত বর্ধনশীল এবং ক্ষতিকর। মেডিক্যাল সাইন্সের অগ্রযাত্রার সাথে সাথে জটিল অবস্থায় উপনীত অনেক লিউকেমিয়া রোগী তাদের ব্যাথা থেকে মুক্তি পেয়েছেন উন্নত চিকিৎসার ফলে। আসলে, আজকাল ব্যাথামুক্তিই লিউকেমিয়া চিকিৎসার শেষ লক্ষ্য নয়। তথাপি, রোগীর জীবনের মানোন্নয়ন এবং তাদের দীর্ঘায়ু ই এখনকার গবেষণার মূল উদেশ্য। লিউকেমিয়া চিকিৎসা পদ্ধতি এখন পর্যন্ত নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত করেঃ
বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন
ক্যান্সার কোষ এবং অস্বাভাবিক ক্লোনিং কোষগুলো পরিষ্কার করার পর বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করা হয় এবং ইহা প্যাথোজেনেসিস বন্ধ করে দেয় রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি অথবা অন্য কোনো প্রতিরোধ উপায়ে। এটা হল রোগীর অথবা অন্য কারও স্বাভাবিক রক্ত-উৎপন্নকারী স্টেম কোষ লিউকেমিয়া রোগীর শরীরে স্থাপন করা, যাতে করে তার কোষগুলো স্বাভাবিক রক্ত-উৎপন্নকারী কোষে পরিণত হতে পারে এবং ইহাই হলো চিকিৎসার উদ্দেশ্য। এটাই লিউকেমিয়ার সর্বোত্তম চিকিৎসা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ৫০% লিউকেমিয়া রোগীর জীবনকাল দীর্ঘ হয়েছে।
কেমোথেরাপি
উন্নত লিউকেমিয়ার জন্য কেমোথেরাপিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এটার লক্ষ্য হলো লিউকেমিয়ার ক্লোনিং কোষগুলোকে ধ্বংস করা এবং বোন ম্যারো পুনরায় তৈরি করা যাতে এটা স্বাভাবিক কোষ উৎপন্নকারী কার্যক্রমে ফিরে যেতে পারে। কেমোথেরাপি নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়ঃ ইন্ডাকশন কেমোথেরাপি, উপশমের পরের কেমোথেরাপি, চিকিৎসার পরের কেমোথেরাপি, ইনটেনসিভ কেমোথেরাপি। এটা লিউকেমিয়ার লক্ষণগুলো কার্যকরভাবে উপশম করতে পারে এবং রোগীর জীবন দীর্ঘজীবি করতে পারে। তথাপি, বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনের পূর্বে এটা একটি প্রয়োজনীয় ধাপ।
গতানুগতিক চাইনিজ ঔষধ এবং পাশ্চাত্য ঔষধের মিশ্রণ
যেহেতু কেমোথেরাপি এবং বায়োথেরাপি মানব শরীরে অনেক বিষাক্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তাই চাইনিজ ঔষধের সাথে এদের মিশ্রণ কার্যতভাবে এইসব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কমাতে পারে। যেসব লিউকেমিয়া রোগীর গভীর মেটাস্টাসিস আছে এবং যারা একটু গরীব প্রকৃতির এবং যারা কেমোথেরাপির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সহ্য করতে পারে না, তারা ইচ্ছা করলে চাইনিজ ঔষধের চিকিৎসা নিতে পারেন, যার জীবনের মানোন্নয়ন এবং জীবনকাল দীর্ঘায়নে রয়েছে ব্যাপক সাফল্য।
বায়োথেরাপি
বিগত কয়েক বছরে বায়োথেরাপির উপর গবেষণা অনেক সফলতা অর্জন করেছে। “ডি সি – সি আই কে” বায়োথেরাপি টেকনিক শরীরের ইমিউন সিস্টেম চালু করতে সাহায্য করে এবং ক্যান্সার কোষগুলকে সরিয়ে ফেলে। সেই সাথে তাদের বংশবৃদ্ধি বিনষ্ট করে দেয় যাতে করে রিকারেন্স এবং মেটাস্টাসিস আর না হয়।
মডার্ন ক্যান্সার হসপিটাল গুয়াংঝু এর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, যেহেতু অনেক ধরনের লিউকেমিয়া আছে, তাই চিকিৎসা পদ্ধতি রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে নির্বাচন করা উচিৎ। যদিও মেডিক্যাল সাইন্সের আরও অনেক সময় লাগবে সম্পূর্ণরূপে লিউকেমিয়া সারিয়ে তুলতে, তারপরও লিউকেমিয়া রোগীরা তাদের রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন নিম্নোক্ত ডাক্তারের পরামর্শ এবং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরন করে ও নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের ধরণ অনুযায়ী।
scrollTop